রাজবাড়ীর পুজো একদিনে
দি নিউজ লায়ন ; করোনা আবাহওযার মধ্যে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে সেজে উঠেছে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি প্রাঙ্গণ। জগদ্ধাত্রী পুজো হলেও সুদূর নবাব আমল থেকে রাজবাড়ীতে মাতা পূজিত হয়ে আসছেন রাজরাজেশ্বরী রূপে। বাংলায় নবাবী শাসন চলাকালীন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় এই পূজার সূচনা করেছিলন।
কথিত আছে, ধর্মভীরু রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়কে তৎকালীন বাংলার নবাব ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য আদেশ জারি করেছিলেন। কিন্তু নবাবের সেই আদেশকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। যার পরিপ্রেক্ষিতে নবাব রাজার উপর ক্ষুব্দ হয়ে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অপবাদে তাঁর কাছ থেকে নয় লক্ষ টাকা দাবি করেন। সময়মতো সেই বিশাল অংকের অর্থ নবাবকে দিতে না পারার অভিযোগে রাজাকে বন্দী করে কারাগারে নিক্ষেপ করেন নবাব।
সেই সময় মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পরম মিত্র ইন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সেই নয় লক্ষ টাকা জোগাড় করে নবাবকে পৌঁছে দিয়ে রাজাকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করেন। জানা যায়, মুক্তি পাওয়ার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রাজা জলপথে ফেরার সময় বিজয়ের বিসর্জন দেখতে পেয়ে আরো ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠেন। এবং মানসিক অবসাদে নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন।
জানা যায়, সেই সময়ে মাতা রাজরাজেশ্বরী তাকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে পরবর্তী শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে কুমারী রূপে তাঁকে আরাধনা করার আদেশ দেন।এরপর থেকে আজও পর্যন্ত সেই রীতি মেনে মাতা রাজরাজেশ্বরী কুমারী রূপে পূজিত হয়ে আসছেন কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে। বর্তমানে কোভিড পরিস্থিতি কে সামনে রেখে সম্পূর্ণভাবে স্বাস্থ্যবিধি কে মান্যতা দিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই রাজবাড়ীতে পূজার্চনা হচ্ছে।

Post a Comment